1. poroshbangla@gmail.com : admin :
  2. subarnotv@gmail.com : Suborno TV : Suborno TV
October 19, 2020, 10:47 pm

দেশে কেউ অনাহারী ও গৃহহীন থাকবে না- প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২০
  • 23 Time View

 

কৃষি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আপনারা কেউ এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখবেন না। গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান। যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।

বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে শুক্রবার বেলা ১১টায় কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানস্থলে (প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল) যুক্ত হন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কিউ ডংইউর ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাউল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আমরা সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছি। কাজেই এ দেশে আর কেউ না খেয়ে থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না- সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্যের সঙ্গে যাতে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয় এবং মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়- সেটাও আমাদের লক্ষ্য। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে চিকিৎসা সেবা পায় সেজন্য তাদের দোরগোড়ায় আমরা চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। কেউ পুষ্টিহীনতাতেও ভুগবে না, সেজন্য মায়েদেরও আমরা মাতৃত্বকালীন আর্থিক সাহায্য দিচ্ছি। সদ্যপ্রসূত মা বা যারা ব্রেস্ট ফিডিং করান তাদেরও আমরা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের যে কর্মসূচি রয়েছে তার মাধ্যমেও আমরা আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। তার সেই চাওয়া বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী এবং তারা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখে। মহামারী করোনার মোকাবেলার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়, বন্যা মোকাবেলা করে যাচ্ছি। এভাবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের বাঁচতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যখনই বিশ্বে করেনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে তখনই আমরা খাদ্য উৎপাদনে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিশ্চয়তা বিধানের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রণোদনার প্যাকেজ অনুযায়ী কৃষকদেরকেই সব থেকে বেশি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যাতে তারা তাদের সাধারণ কাজগুলো (কৃষিকাজ) ভালোভাবে চালাতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন তার সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই দেশের দরিদ্র জনগণ যারা করোনার জন্য কোনো কাজ করতে পারেনি তাদের জন্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করে যাচ্ছি। যারা হাত পেতে টাকা নেবে না, কিনে খেতে চায় অথচ বেশি টাকাও নেই তাদের জন্য আমরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের ব্যবস্থা হিসাবে ২৫১ কোটি টাকা খরচ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যাতে বাজারজাত করতে পারে সেজন্য ৮৬০ কোটি টাকার সহায়তা দিচ্ছি। পাশাপাশি, সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের উৎপাদিত ধান-চাল ক্রয় করেও আমরা তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।

সরকার প্রধান বলেন, ‘৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি যাতে কৃষকরা অল্প মূল্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করতে পারে। বাকি অর্থ সরকারের পক্ষ থেকেই দেয়া হচ্ছে। তাছাড়াও, কৃষির জন্য কৃষি সহায়তা হিসেবে আমরা ৯ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়ে করোনার মাঝেও অর্থনীতির চাকা যাতে সচল থাকে সেই ব্যবস্থা করেছি। শুধু কৃষির জন্যই ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি।’

খাদ্য উৎপাদনে বিএনপির ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর ’৯৬ সালে যখন প্রথম সরকার গঠন করি সে সময় ২৪ লাখ টন খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশ। সেই দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে ২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয় তখন ২৬ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যায়।’

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের মূল্য কৃষকদের নাগালের মধ্যে রেখে তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) প্রতি বছর এ দিবসটি উদযাপন করে থাকলেও সংস্থাটির ৭৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আজকের দিনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এজন্য সংস্থাটিকেও ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানে কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

শেয়ার করুন

এই রকম আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 SUBATNO TV
Develper By Porosh Tech